গরমে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো জানুন
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো জানতে চান? উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সেরা সিরাম কোনটি? জানতে হলে এক্ষুনি আজকের পোস্টটি একবার পড়ে নিন। আপনাদের যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন একটি সিরাম বেছে নিতে পারেন যা আপনার ত্বকে সিবাম নিঃসরণের প্রবণতা কমায়।
আজকে
আমরা আলোচনা করবো তৈলাক্ত এবং উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সবচেয়ে সেরা সিরাম
কোনটি সে সম্পর্কে। সাথে আরো আলোচনা করবো তৈলাক্ত ত্বকের ফেসওয়াশ নিয়ে।
তাহলে চলুন মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।
পোস্ট সূচিপত্রঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো জানুন
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো
- উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সেরা সিরাম
- ব্রণের জন্য কোন সিরাম ভালো
- ছেলেদের জন্য কোন সিরাম ভালো
- মেছতার জন্য কোন সিরাম ভালো
- তৈলাক্ত ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য সেরা ময়েশ্চারাইজার
- অয়েলি স্কিনের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো
- কোন ত্বকের জন্য কোন সিরাম
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো মেয়েদের
- পরিশেষে - তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো জানেন! তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সঠিক সিরাম নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং ত্বকের পোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধ করে। বিশেষ করে গরমকালে আমাদের অনেকেরই ত্বক আরো বেশি তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। তবে সঠিক সিরাম ব্যবহার করলে ত্বকের তৈলাক্ততা খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আলোচনার শুরুতেই চলুন জেনে নিই তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী কিছু সিরাম এবং তাদের কার্যাবলী সম্পর্কে-- নিয়াসিনামাইড সিরামঃ ভিটামিন বি-৩ একটি শক্তিশালী উৎস হলো নিয়াসিনামাইড সিরাম। যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি ত্বকের পোরস ছোট করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের কালো দাগ, অমসৃণতা ভাব কমায়। এছাড়াও এতে এন্টি ইনফ্লামেটরি গুন থাকার কারণে এটি আমাদের ত্বকের ব্রণের সমস্যা সাথে ত্বকের আসল উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।
- স্যালিসিলিক এসিড সিরামঃ স্যালিসিলিক অ্যাসিড একটি কার্ব হাইড্রক্সি এসিড, যা আমাদের ত্বকের পোরের মধ্যে প্রবেশ করে এবং ত্বকের মৃত কোষগুলো পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল অপসারণ করে। এটি ত্বকে মূলত এক্সেলফলিয়েটিং উপাদান হিসেবে কাজ করে।
- ফলে ত্বক শুষ্ক থাকে এবং মৃত কোষের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত হয়। এই উপাদানটি বিশেষভাবে ব্রন ও ব্লাডহেডস দূর করতে সাহায্য করে। কারণ, এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকের অবরুদ্ধ পোর খুব ভালো করে পরিষ্কার করে দেয়।
- হায়ালুরোনিক এসিডঃ যদিও হাইড্রেশন তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর প্রধান কাজ হল এটি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে এবং অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে না। হায়ালুরোনিক এসিড ত্বকের গভীরে জল শোষণ করে এবং ত্বকের ফাইন লাইনস ও শুষ্কতা কমায়। তাছাড়া এটি ত্বকের ব্যারিয়ারের সুরক্ষা বাড়িয়ে ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে। আবার নিয়মিত এই সিরামটি ব্যবহারে এটি ত্বককে ভারী না করে পর্যাপ্ত পরিমাণে আদ্রতা প্রদান করে।
- রেটিনল সিরামঃ রেটিনল সিরাম আমাদের ত্বকের কোষ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ত্বকের কোষ টার্নওভার বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বক থেকে মৃত কোষগুলো অপসারণ করে এবং ত্বককে দিন দিন মসৃণ করে তোলে। রেটিনল তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে পাশাপাশি ব্রাউন ও ব্ল্যাকহেডস এর সমস্যা দূর করে।
- শুধু তাই নয়, এটি ত্বকের পোরের ভেতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে এবং পোরের আকার অনেকটা ছোট করে ফেলে। তবে এটি সূর্যের আলোতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা সতর্ক অবলম্বন করতে হবে।
- টি ট্রি ওয়েল সিরামঃ ফ্রি ট্রি অয়েল সিরামটি ব্যবহার করলে এটি আমাদের ত্বকে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন সরবরাহ করতে থাকে। যা ব্রণ এবং অন্যান্য ত্বক সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের সমস্যা কমাতে সহায়ক। এটি ত্বকের সিবাম উৎপাদন কমিয়ে এনে ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে।
- জিংক সিরামঃ জিংক একটি শক্তিশালী মিনারেল যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সিরামটি ত্বকের সিবাম উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে একটি ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ব্রনের জন্য উপকারী। এছাড়া এর আন্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ত্বককে শুষ্ক রাখে এবং ত্বক অতিরিক্ত টানটান না করে হাইড্রেটেড রাখে।
- ভিটামিন সি সিরামঃ ভিটামিন সি আমাদের ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের মলিন ভাব এবং পিগমেন্টেশন কমায়। তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করলে এটি ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের সার্বিক টোন উন্নত করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি ব্রণের দাগ কমাতে এবং ত্বকে নতুন ব্রণ উঠতে বাধা প্রদান করে।
- গ্লাইকোলিক এসিড সিরামঃ এটি একটি আলফা হাইড্রোক্সাই অ্যাসিড, যা আমাদের ত্বকের গঠন সার্বিকভাবে উন্নত করতে এবং ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে সাহায্য করে। তবে এই সিরামটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অতিরিক্ত এক্সফ্লোয়েটিং এড়িয়ে চলতে হবে।
- অয়েল ফ্রী বা ম্যাটিফাইং সিরামঃ অয়েল ফ্রী সিরাম হিসেবে আপনি লেবেল যুক্ত সিরাপ গুলি নির্বাচন করুন। কারণ, এই সিরামটিতে সিলিকার মত কিছু উপাদান থাকে যা সারাদিন ভর ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে থাকে। ফলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল খুব সহজেই নিয়ন্ত্রিত হয়। এমনকি এই সিরাম টি ত্বকে ম্যাট ফিনিশ দিতেও বেশ কার্যকরী।
- গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট সিরামঃ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি এই দুটি উপাদান রয়েছে গ্রীন টি এক্সট্রাক্ট সিরামে। যা আমাদের ত্বকের জন্য উপকারী। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেলটে ভাব নিয়ন্ত্রণ তো করেই, পাশাপাশি ত্বকের লালচে ভাব এবং যেকোনো ধরনের জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।
- হালকা ওজন এবং জেলভিত্তিক সিরামঃ হালকা ওজনের এবং জেল ভিত্তিক সিরাম গুলো তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
- এস পি এফঃ আপনার সিরামে যদি সূর্যালোকের সুরক্ষা থাকে সেক্ষেত্রে এটি আরো ভালো। কারণ, এটি আমাদের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রা ভায়োলেট রশি থেকে রক্ষা করে।
- গ্রিন টি সিরামঃ গ্রিন টি সিরাম এন্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি সম্পন্ন হওয়ার কারণে এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে, ত্বকের ব্রণের ভাব কমায়। পাশাপাশি ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করে।
- The Ordinary Niacinamide 10% + Zinc 1%ঃ এই সিরামটি ওয়াটার বেসড সিরাম। এতে ১০% নিয়াসিনামাইড এবং ১% zinc PCA রয়েছে। সিরামটিতে PH এর মাত্রা রয়েছে ৫.০-৬.৫। যা ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সাথে ত্বকের পোর কমাতেও কাজ করে। এই এই সিরামটি আপনি বাজারে ৩০ মিলি ৬০ মিলি দুটো সাইজেই পাবেন। যার দাম পড়বে বাংলাদেশী টাকায় ১১০০-১৯৫০ টাকা। সিরামটি ব্যবহারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাস।
- Anua Niacinamide ১০% + TXA ৪% Dark Spot Correcting Serumঃ এই সিরামটি আপনার ত্বকে থাকা ব্রনের দাগ, কালো দাগ ও পিগমেন্টেশন হালকা করতে কাজ করবে। এর ফর্মুলায় রয়েছে tranexamic acid, arbutin এবং নিয়াসিনামাইড। সাথে তৈলাক্ত ত্বকের ভারসাম্যও রক্ষা করে। বাজারে ৩০ মিলি সাইজের এই সিরামটি যেকোনো কসমেটিক্সের দোকানে পেয়ে যাবেন। যার দাম পড়বে বাংলাদেশি টাকায় ১৯৫০ টাকা। সিরামটি খোলার পর ব্যবহারের মেয়াদ থাকবে ১২ মাস পর্যন্ত।
- SKIN1004 Madagascar Centella Premixing Fresh Ampouleঃ এই সিরামটিতে থাকা Himalayan Pink Salt এবং Centella Asiatica Extract এই দুটো একসাথে কাজ করে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায় এবং বড় পোর ছোট করে ফেলে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি একটি হালকা পোর কেয়ার আম্পুল। এতে PH এর মাত্রা রয়েছে ৫.৫-৬.৫। যে কোন কসমেটিকসের দোকানে আপনি ৩০ এবং ১০০ মিলির দুটো সাইজ পেয়ে যাবেন যথাক্রমে ৭৫০ এবং ১৮৫০ টাকায়। এটিরও মেয়াদকাল ১২ মাস পর্যন্ত।
- Purito Seoul TXA 6 niacinamide 10 retinal serumঃ এটি এমন এক ধরনের কম্বিনেশন সিরাম যেখানে একই ফর্মুলায় রয়েছে tranexamic acid, retinal এবং niacinamide । যা স্কিন টোন, ত্বকের টেক্সচার, ফাইন লাইন, ব্রণের পরের দাগ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও এই সিরামটি বেশ উপযোগী। সিরামটটি বাজারে ৩০ মিলির সাইজে পাওয়া যায় যার দাম বাংলাদেশি টাকায় ১৮৫০ টাকা। এতে PH রয়েছে ৫.৫-৬.৫। সিরামটি খোলার পর আপনি ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
- Medicube TXA Niacinamide 15% Serumঃ আপনার ত্বকে যদি দাগের ঘনত্ব খুব বেশি থাকে তাহলে এই সিরামটি ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এটি দাগের ঘনত্ব , ব্রনের কালো দাগ এবং দীর্ঘদিনের পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। এতে PH রয়েছে আনুমানিক ৫.৫-৬.৫। বাজারে ৩০ মিলি সাইজের এই সিরামটির দাম পড়বে বাংলাদেশি টাকায় ১৬৫০ টাকা। সিরামটি ব্যবহারের মেয়াদ পাবেন সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত।
- Jumiso all day vitamin brightening and balancing serumঃ এই সিরামে রয়েছে 5% niacinamide এবং vitamin C derivatives যা আপনার ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে সাহায্য করে। অন্যান্য সিরামের থেকে এতে PH এর মান কিছুটা বেশি ৬.০-৭.০। ৫ মিলি এবং ৩০ মিলি এই দুটো সাইজের সিরামের দাম পড়বে বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ৪০০ এবং ৬০০ টাকা। খোলার পরে এই সিরাম টি ও আপনি ১২ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
- APBL Glutathione Niacinamide Ampouleঃ এই সিরামটি আসমান স্কিন টোন নিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ তৈলাক্ত আর কম্বিনেশন ত্বকের জন্য খুবই উপযোগী। ৪০ মিলি সাইজের এই সিরামটির দাম পড়বে আর বাংলাদেশী টাকায় ৮৫০ টাকা। সাথে ব্যবহারের মেয়াদ পাবেন সর্বোচ্চ ১২ মাস।
- Jumiso Niacinamide 20 Serum 40mlঃ এটি এক ধরনের বেশি ঘনত্বের পোর রিফাইনিং জাতীয় সিরাম। এতে নিয়াসিনামাইড রয়েছে ২০%, glutathione এবং tranexamic acid। ব্যবহার করলে এটি আপনার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, কালো দাগ এবং বড় পোর কমাতে সাহায্য করবে। ৪০ মিলি সাইজের এই সিরামটির দাম পড়বে বাংলাদেশি টাকায় ১৬৫০ টাকা। সিরামটি ব্যবহারের মেয়াদকাল ১২ মাস।
- COS DE BAHA Niacinamide ২০% + Zinc 4% Serumঃ তৈলাক্ত এবং ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য এই সিরামটি উপযোগী। এতে জিংক এবং নিয়াসিনামাইড থাকার কারণে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমায়। সিরামটিতে পিএইচ এর মাত্রা ৫.৫- ৬.৫। ৩০ মিলি সাইজের এই সিরামটির দাম পড়বে বাংলাদেশি টাকায় ৯৯০ টাকা। ব্যবহারের মেয়াদকাল থাকবে ১২ মাস।
- Nineless B-boost 10% Niacinamide Serumঃ আপনারা যারা খুব বেশি ঘনত্বের নিয়াসিনামাইড ফর্মুলা এড়িয়ে চলতে চান তারা এই সিরামটি ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বক উজ্জ্বল করে, ত্বকের তেলচিটে ভাব কমায়। সাথে স্কিন ব্যারিয়ার মজবুত করে। ৩০ মিলি সাইজের এই সিরামটির দাম পড়বে বাংলাদেশি টাকায় ১৩০০ টাকা। সিরামটি ব্যবহারের মেয়াদকাল ১২ মাস।
- Minimalist 10% vitamin c face serumঃ মিনিমালিস্ট ব্রান্ডের এই সিরামটি ব্রণ প্রবন এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ইথাইল এসকরবিক অ্যাসিড। এর লাইট ওয়েট ওয়াটার বেসড ফর্মুলা যেমন ত্বকে দ্রুত শোষিত হয় ঠিক তেমনি ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং দাগ কমায়। নিয়মিত এই সিরামটি ব্যবহার করলে ত্বকের টোন সমান হয়ে যায় এবং প্রাকৃতিক গ্লো ফিরে আসে।
- Caplino vitamin c serum 12%ঃ তৈলাক্ত ত্বক এবং অসমান টোনের জন্য ক্যাপলিনো ব্র্যান্ডের এই সিরামটি খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের গভীর লোমকূপ গুলো ছোট করে ফেলে। সবচেয়ে ভালো ফলাফল পেতে আপনি সানস্ক্রিনের সাথে এই সিরামটি ব্যবহার করতে পারেন।
- Bioaqua moisturizing vitamin c serumঃ এই ভিটামিন সিরামটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনার তৈলাক্ত ত্বকে হালকা হাইড্রেশন দিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বকের ডার্ক স্পট কমিয়ে ফেলে এবং ত্বকের টোন ঠিক রাখে। সেই সাথে এর লাইট ওয়েট ফর্মুলা ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ভালো ফল পেতে আপনি ময়েশ্চারাইজার এর সাথে এই সিরামটি ব্যবহার করতে পারেন।
- Zayan & Myza vitamin c face serumঃ এই সিরামটি তৈলাক্ত ত্বকের নিস্তেজতা দূর করে ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রটেকশন দিয়ে আপনার ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।
- Melano vitamin c serum 20% +E &Hyaluronic acidঃ এই সিরামটি ভিটামিন ই, 20% ভিটামিন সি এবং হায়ালূরণিক এসিডের কম্বিনেশন তৈরি। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকে বয়সের ছাপ ও কালচে দাগ দূর হবে। সেই সাথে ত্বকের বলিরেখা কমাবে। এই সিরামটি যখন ব্যবহার করবেন প্রথমবার অল্প করে ব্যবহার করুন। যাতে আপনার ত্বক সিরামটি নিতে অভ্যস্ত হয়।
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সেরা সিরাম
উজ্জল ত্বকের জন্য কোন সিরামটি সবচেয়ে সেরা হবে সে বিষয়েও আমাদের জেনে রাখা দরকার। তাছাড়া উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় ত্বক পাওয়ার জন্য উপযুক্ত সিরামটি বাছাই করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। যা আমরা অনেকেই ভুল করে থাকি। প্রিয় পাঠক, উজ্জ্বল ত্বক পেতে আপনি যেসব সিরাম নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন এবং সিরামগুলো আপনার ত্বকে ঠিক কিভাবে কাজ করে তা জানিয়ে দিচ্ছি-- আলফা আরবুটিন সিরামঃ আলফা আরবুটিন সিরামটি ত্বকে যেকোনো ধরনের পিগমেন্টেশন ও দাগছোপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। এটি আমাদের ত্বকে টাইরোসিনেজ নামক একটি এনজাইমকে ব্লক করে, যা মেলানিন তৈরিতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকের কালচে ভাব ও দাগ কমে যায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। বিশেষ করে মেছতা, সানস্পট এর মতো দাগ দূর করতে দারুন কাজ করে এই সিরামটি।
- কোজিক অ্যাসিড সিরামঃ কোজিক এসিড সিরাম হলো প্রাকৃতিকভাবে ছত্রাক থেকে প্রাপ্ত এক ধরনের স্কিন লাইটেনিং এজেন্ট। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকে মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে স্ক্রিনটোন হালকা ও উজ্জ্বল করে। বিশেষ করে পিগমেন্টেশন, ত্বকের কালো দাগ এবং সান স্পটের দাগের ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর।
- মাল্টি পেপটাইড সিরামঃ উজ্জ্বল ত্বকের জন্য আপনি বেছে নিতে পারেন মাল্টি পেপটাইড সিরামটিকে। এটি আমাদের ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সাহায্য করে। এমনকি ত্বকের গঠন মজবুত করার পাশাপাশি বার্ধক্যের ছাপ কমাতেও খুব ভালো কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহারে এতে থাকা পেপটাইড উপাদান গুলো আমাদের ত্বক পুনরুজ্জীবিত করে এবং ত্বকে এনে দেয় প্রাকৃতিক গ্লো ও উজ্জ্বলতা।
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সিরামঃ ল্যাকটিক অ্যাসিড একটি প্রাকৃতিক আলফা হাইড্রোক্সি এসিড, যা ব্যবহারে এটি ত্বক থেকে মৃত কোষ তুলে ফেলে এবং স্কিন টেক্সচার মসৃণ করে। নিয়মিত এই সিরামটি ব্যবহারে এটি ত্বককে এক্সফলিয়েট করে। ফলে ত্বকের বন্ধ পোরা খুলে যায় এবং ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এমনকি নিস্তেজ ও রুক্ষ ত্বক করে তোলে নরম, পরিষ্কার ও দীপ্তিময়।
- স্কিনসিউটিক্যালস সিই ফেরুলিকঃ এটি একটি কাল্ট-প্রিয় সিরাম, যা ফেরুলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন ই এর সাথে ১৫ শতাংশ ভিটামিন সি যোগ করে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং ত্বক থেকে বলিরেখা দূর করতে ভালো কাজ করে। নিয়মিত এই সিরামটি ব্যবহারে আপনার ত্বক হতে পারে আরো উজ্জ্বল এবং তারুণ্যময়।
- আলফা এইচ ভিটামিন বি সিরামঃ এটি একটি শক্তিশালী ফর্মুলেশন। যা নিয়াসিনামাইডকে চিয়াসিড বীজের নির্যাস, কপার ট্রি পেপটাইড এবং ফেরুলিক এসিড এর সাথে যুক্ত করে। সুতরাং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই সিরামটির জুড়ি মেলা ভার।
- ওলে হেনরিকসেন ট্রুথ সিরামঃ ওলে হেনরিকসেন ট্রুথ সিরাম হল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি সিরাম। যা ত্বকের নিস্তেজতা কমাতে কাজ করে। সিরামটিতে থাকা গ্রিন টি নির্যাস, ভিটামিন সি এবং অ্যালোভেরার সংমিশ্রণ আমাদের ত্বককে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা দেয় এবং সেই সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
- আজেলাইক এসিড সিরামঃ আজেলাইক এসিড সিরাম ত্বকের কালো দাগ, ব্রণ এবং ত্বকের অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের জন্য কার্যকরী। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি ত্বকে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং ত্বকের রং হালকা করে।
- অর্গান অয়েল সিরামঃ অর্গান ওয়েল প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা আমাদের ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং হাইড্রেটেড রাখে। এটি ড্রাই বা মিশ্র ত্বকের জন্য বেশি উপকারী। অর্থাৎ নিয়মিত অর্গান অয়েল সিরাম ব্যবহারে আপনার ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ও কমলতা ফিরে আসবে এবং ত্বক হয়ে উঠবে দীপ্তিময়।
- ১০% লাইলাক ভিটামিন সি সিরামঃ এই সিরামটিতে রয়েছে হায়ালুরোনিক এসিড এবং ভিটামিন সি। যা আমাদের ত্বকে ম্যাজিকের মত কাজ করে। এতে এসকর্বিক অ্যাসিডের ascorbyl glucoside নামক একটি স্ট্যাবল ফর্ম রয়েছে। এই ফর্মটি আমাদের স্কিনে ভিটামিন সি সরবরাহ করতে থাকে। যেহেতু এটি একটি গ্লুকোজ ফর্ম এবং এর সাথে ভিটামিন সি সংযুক্ত রয়েছে, তাই এটি একেবারে আমাদের ত্বকের গভীরে যেয়ে এসকরবিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
- মাতাল হাতি সি-ফার্মা ডে সিরামঃ এটি একটি শক্তিশালী ভিটামিন সি সিরাম। যা ভিটামিন ই এবং ফেরুলিক এসিডের সাথে এল এসকরবিক এসিড কে মিলিয়ে দেয়। ঠিক এই ফর্মুলেশনের জন্যই এটি আমাদের তরফ থেকে যেকোনো ধরনের কালো দাগ অতি সহজে দূর করতে পারে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে।
- Boots Glow Essence Serum আপনাদের যাদের বাজেট বেশি তারা এই সিরামটি বেছে নিতে পারেন। এতে রয়েছে স্কিন নারিশিং ইনগ্রেডিয়েন্ট সহ নিয়াসিনমাইড, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনেট। আপনার স্কিনকে হাইড্রেটেড এবং ময়শ্চারাইজড রাখতে এই সিরামটি দারুন কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি আপনার ড্যামেজড স্কিন রিপেয়ার করে গ্লোয়িং লুক দেবে। বাজারে ২৮ মিলিগ্রামের বোতলে সিরামটি পাওয়া যাচ্ছে। সাথে ড্রপার তো রয়েছেই।
- Groom Glutathione + Alpha Arbutin + HA Brightening Serum গ্রুমি ব্র্যান্ডের টোটাল তিনটি আলাদা সিরাম রয়েছে। যার মধ্যে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য এই ব্রাইটেনিং সিরামটি অন্যতম। আপনার ত্বকে স্পট থাকলে এই রাইটিং সিরামটি আজ থেকেই ব্যবহার শুরু করুন। কারণ এটি স্কিনটোন ব্রাইট করার সাথে সাথে ত্বকের যে কোন স্পট দূর করে। যে কোন কসমেটিকসের দোকানে ৩০ মিলিগ্রামের একটি আকর্ষণীয় বোতলে এই সিরামটি আপনি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।
- Lilac Brightening Serum with 2% Alpha Arbutin and 1% Kojic Acid অনেকের স্ক্রিনে আবার ভিটামিন সি শুট করে না। আপনাদের যাদের স্কিনে ভিটামিন সি শুট করছে না তাদের জন্য রাইট চয়েস হতে পারে লাইলাকের এই ব্রাইটেনিং সিরামটি।। এতে রয়েছে ২% আলফা আরবুটিন এবং কোজিক এসিড ১%। এই সিরামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যেকোনো ধরনের স্কিনে এটি খুব সহজেই স্যুট করে। সাথে স্কিনটোন ব্রাইট ও গ্লোয়িং করে। বর্তমানে ৩০ মিলিগ্রাম এর প্যাকেজিংয়ে এই সিরামটি পাওয়া যাচ্ছে। তাই বলব আপনারা যারা স্কিন কেয়ার রুটিন শুরু করতে যাচ্ছেন তারা চোখ বন্ধ করে লায়লাক ব্রাইটেনিং সিরামটি ব্যবহার করতে পারেন।
- Skin1004 Madagascar Centella Tone Brightening Capsule Ampoule Skin1004 ব্র্যান্ডের এই টোন Brightening টেম্পলটি তৈরি মাদাগাস্কার সেন্টেলা এশিয়াটিকা দিয়ে। যার কারণে এটি ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ডার্ক স্পট কমে।
- Melao whitening serum alpha arbutin serum plus kojik acid কোজিক এসিড এবং আলফা আরবুটিনের মত শক্তিশালী কম্বিনেশনে তৈরি এই সিরাম টি। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে ডার্ক স্পট এবং হাইপারপিকমেন্টেশন রিমুভ করে। ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
- Organikaon vitamin c serum for bright and younger skin এই সিরামটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভিটামিন সি সিরাম। এটি ব্যবহারে ত্বকের নিস্তেজ ভাব দূর হয়ে যায় এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
- Laxzim Alpha Arbutin 0.2% + Hyaluronic Acid Serum এই সিরামটি পুরোপুরি ব্রাইটেনিং ফর্মুলায় তৈরি। এতে রয়েছে আলফা আরবুটিন ও হায়ালুরনিক এসিড। ত্বকের ডার্ক স্পট কমাতে সাহায্য করে আলফা আরবুটিন। অন্যদিকে হায়ালুরনিক এসিড আপনার ত্বককে সারাদিন হাইড্রেট রাখে।
- The Dermalix Niacinamide 4% + Alpha Arbutin 2% Brightening Serum Dermalix ব্র্যান্ডের এই সিরামটি একসাথে আলফা আরবুটিন ২% এবং নিয়াসিনামাইড ৪% এর কম্বিনেশন তৈরি। এই সিরামটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের টোন সমান হয়, লোমকূপ কমে এবং ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বাধাগ্রস্থ করে পিগমেন্টেশন হালকা করে।
- Precious skin 10% neacinamide facial bride serum তৈলাক্ত ও কম্বিনেশন ত্বকের জন্য এই সিরামটি অত্যন্ত উপকারী। এটি ব্যবহারে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ত্বক ভেতর থেকে গ্লো করতে থাকে।
- Wishcare super bright c16 vitamin c face serum উইসকেয়ারের এই সিরামটি অত্যন্ত উচ্চ ঘনত্বের ভিটামিন সি ফর্মুলা সহযোগে তৈরি। যা ত্বকের একেবারে গভীর থেকে কাজ করে। এটি ত্বকে মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বকের কালো দাগ, মেছতার দাগ, ব্রনের স্পট ইত্যাদি দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
ব্রনের জন্য কোন সিরাম ভালো
ব্রনের জন্য কোন সিরাম ভালো জানেন! তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরামটি ভালো হবে এতক্ষন আমরা জেনেছি। এবার আমরা জানবো ত্বকের ব্রণ দূর করতে কোন সিরামটি ভালো। আপনার ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য উপযুক্ত সিরাম বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন, ইনফ্লামেশন এবং ব্রণের সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।এই
ধরনের ত্বকের জন্য সাধারণত এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, আন্টিইনফ্লামেটরি এবং
ময়েশ্চারাইজিং উপাদান সমৃদ্ধ সিরাম খুব ভালো কাজ করে। সে হিসেবে
আপনি স্যালিসিলিক এসিড, নিয়াসিনামাইড, টি ট্রি ওয়েল, জিঙ্ক পিসিএ এই
উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণ নিরাময়ে এগুলো অত্যন্ত
কার্যকর। স্যালিসিলিক এসিড ব্যবহারে এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে
পোরগুলো
গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
অপরদিকে নিয়াসিনামেইড ত্বকের লালচে ভাব ও প্রবাহ কমায় এবং ত্বকের
টেক্সচার উন্নত করে। আবার একটি টি ট্রি ওয়েল এটি একটি প্রাকৃতিক
এন্টিসেপটিক যা ব্যাকটেরিয়াজনিত ব্রণ দমনে কাজ করে। সাথে জিংক pca ত্বকে
অতিরিক্ত তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।
সাথে
যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। ব্রণ দূর করতে অনেকের কাছেই
এই সিরাম গুলি বেশ জনপ্রিয় এবং কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং
ত্বকের ব্রণ দূর করতে আপনি এই সিরাম গুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল
রাখবেন, সিরামটি যেন অবশ্যই তেল ও অ্যালকোহল মুক্ত হয়। তা না হলে ত্বক
আরো শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
ছেলেদের জন্য কোন সিরাম ভালো
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো জেনেছেন কিন্তু আপনি কি জানেন ছেলেদের জন্য কোন সিরাম ভালো? ত্বকের যত্ন শুধু মহিলাদের নয়, পুরুষেরও প্রয়োজন। যদিও পুরুষের থেকে মহিলারা ত্বকের যত্ন বেশি নেয়। একজন পুরুষের ত্বকের গঠন সাধারণত মহিলাদের থেকে খানিকটা আলাদা হয়। অর্থাৎ পুরুষের ত্বক মহিলাদের থেকে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি পুরু হয়।অর্থাৎ
ছেলেদের ত্বক সাধারণত মহিলাদের তুলনায় ঘন ও তৈলাক্ত হয়। ঠিক সে কারণেই
ছেলেদের জন্য এমন একটি সিরাম দরকার যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করবে কিন্তু
ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে দেবে না। এক্ষেত্রে ভিটামিন সি সিরামটি ছেলেদের
জন্য দারুন কার্যকর। কারণ, এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, দাগ কমায় এবং
ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
এছাড়াও
রয়েছে হায়ালুরোনিক এসিড যা ত্বককে গভীরভাবে আদ্রতা দেয়। বিশেষ করে
শুষ্ক বা মিশ্র ত্বকের ছেলেদের জন্য এটি উপযোগী। আবার আপনাদের যাদের ত্বকে
ব্রনের সমস্যা বেশি রয়েছে তারা নায়াসিনামাইড যুক্ত সিরাম ব্যবহার করতে
পারেন। যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং লোমকূপ ছোট করবে।
এছাড়াও
বাজারে বা অর্ডিনারি গারনিয়ার এবং লরিয়াল মেন এক্সপার্ট এর মত বিভিন্ন
ব্রান্ডের সিরাম পাওয়া যায় যা ছেলেদের ত্বকের জন্য উপকারী। তবে সিরাম
বাছাই করার সময় অবশ্যই আপনি আপনার ত্বকের ধরন বুঝে নির্বাচন করবেন। সাথে
নিয়মিত পরিষ্কার ত্বকে সিরাম ব্যবহার করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও
সতেজ।
মেছতার জন্য কোন সিরাম ভালো
মেছতার জন্য কোন সিরাম ভালো জানেন কি? মেছতার সমস্যায় নারী পুরুষ কম বেশি সকলেই ভুগতে থাকেন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মেছতা মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা জিনগত কারণে হয়ে থাকে। মেছতার চিকিৎসায় উপযুক্ত সিরাম ব্যবহার করলে মেছতার দাগ অনেকটাই কমে যায়।মেছতা
দূর করার জন্য আপনি বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অনেক ধরনের সিরাম পেয়ে
যাবেন। তন্মধ্যে ভিটামিন সি, নায়াসিনামাইড, কোজিক অ্যাসিড, দা অর্ডিনারি
আলফা আরবুটিন ২%, হাইড্রোকুইনন, বেনজয়েল পারঅক্সাইড, এজিলেক এসিড,
গ্লাইকোলিক এসিড এবং ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড এই সিরাম গুলো মেছতা দূর করতে
খুব ভালো কাজ করে।
এসব
উপাদান ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত মেলানিন হ্রাস করে এবং নিয়মিত ব্যবহারে
ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। তবে একটি কথা সিরাম ব্যবহারের পাশাপাশি
অবশ্যই আপনাকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। কারণ, সূর্যের আলো মেছতাকে আরো
তীব্র করে তোলে। আর হ্যাঁ, এই সিরাম গুলো ব্যবহারের পূর্বে আপনি অবশ্যই
একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।
কারণ,
একেকজনের ত্বকের সমস্যা একেক রকম হয়। আবার কারো কারো ত্বকে সিরাম
ব্যবহারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। মেছতা দূর করতে আপনি কোন
সিরামকে ব্যবহার করবেন আশা করছি বুঝতে পেরেছেন। তাছাড়া মেছতার পাশাপাশি
আপনার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরামটি সবচেয়ে ভালো হবে তা` ইতিমধ্যেই
আজকের আলোচনায় জেনেছেন।
তৈলাক্ত ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য সেরা ময়েশ্চারাইজার
তৈলাক্ত ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য সেরা ময়েশ্চারাইজার খুঁজছেন? বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সাবধান! কারণ, ভুল প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের ব্রণ এবং তৈলাক্ততা আরো বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার ত্বকের জন্য সঠিক ময়শ্চারাইজার বাছাই করাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এবার চলুন জেনে নিই ত্বকের জন্য আপনি কোন মশ্চারাইজ ব্যবহার করতে পারবেন-- Neutrogena Hydro boost Water Gelঃ এই ময়েশ্চারাইজার টি হালকা ও ওয়াটার বেইজড ফর্মুলায় তৈরি, যা আপনার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একেবারে আদর্শ। এতে রয়েছে হায়ালুরোনিক এসিড যা ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি ত্বকে খুব দ্রুত শোষিত হয়ে যায় এবং ত্বকে একদমই চিটচিটে ভাব হয় না।
- ceraVe AM Facial Moisturizing Lotion with SPF 30ঃ এই লোশনটি আপনার ত্বককে সূর্য থেকে সরাসরি সুরক্ষা দিতে পারে। পাশাপাশি ত্বককে গভীরভাবে ময়েশ্চারাইজ করে। এতে নিয়াসিনামাইড এবং হায়ালুরোনিক এসিড রয়েছে, যা ত্বকে ব্রণের দাগ কমাতে এবং তৈলাক্ত ভাব কমাতে সাহায্য করে।
- La Roche-Posay Effaclar Matঃ এটিও একটি অয়েল ফ্রি ম্যাটিফাইং ময়েশ্চারাইজার। যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল অপসারণ করে এবং ত্বককে ম্যাট ফিনিশড দেয়। এতে sebulyse একটি উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের তেল উৎপাদন কমায় এবং পোর্স গুলোকে ছোট করে ফেলে।
- COSRX Oil free-ultra-moisturizing lotionঃ কোরিয়ান এই লোশনটি ৭০% বার্চ স্যাপ দিয়ে তৈরি যা ত্বক হাইড্রেটেড রাখে, কিন্তু ত্বকে একেবারেই তেল উৎপাদন করে না। এতে থাকা বার্চ স্যাপ ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ এর ব্যালেন্স ঠিকঠাক রাখে এবং ব্রণ প্রবণ ত্বকে জ্বালাভাব ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।
- The Ordinary Natural Moisturizing Factors HAঃ এই প্রোডাক্টটি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক হিউম্যাকট্যান্ট যেমন- অ্যামাইনো এসিড, গ্লিসারিন এবং হায়ালুরোনিক এসিড সমৃদ্ধ যা ত্বকের হাইট্রেশন ধরে রাখে। ফলে ত্বক তৈলাক্ত হয় না।
- Clean and cleaner skin balancing oil free moisturizerঃ এই ক্রিমটিতে রয়েছে সেলিসাইলিক এসিড। আপনাদের ত্বকে যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে তারা এই ময়েশ্চারাইজারটি ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, ব্রণ দূর করতে এটি খুব ভালো কাজ করে। তবে এতে সানস্ক্রিন নেই বললেই চলে। তাই এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আপনাকে আলাদাভাবে সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে হবে। এই ময়েশ্চারাইজারটি আপনি বড় কসমেটিকসের শপগুলোতে পেতে পারেন মাত্র ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে।
- The body shop tea tree skin clearing lotionঃ এই ময়েশ্চারাইজারটি তারাই ব্যবহার করবেন যাদের ত্বকে অতিরিক্ত ব্রণের সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি ত্বকের তেলটে ভাব কমায়। ফলে ব্রণের প্রবণতা কমে। আপনি দিন অথবা রাত যেকোনো সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। স্যাফায়ারে এটি ১১৪০ টাকায় আপনি অ্যাভেলেবেল পেয়ে যাবেন।
- The body shop see with metifying day creamঃ দিনের অধিকাংশ সময় যদি আপনার ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে থাকে তাহলে আপনি চোখ বন্ধ করে এই ময়শ্চারাইজারটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহার করলে আপনার ত্বক প্রায় ৫-৭ ঘন্টার মত তৈলাক্ত থাকবে না। এই ময়েশ্চারাইজারটির দাম পড়বে মাত্র ১৫০০ টাকার মতো।
- Lotus herbal white glow micro imalotionঃ আপনারা যারা মুখে ভারী সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভয় পান, কিন্তু রোদে যেতেই হয় তারা এটি ব্যবহার করতে পারেন। এই প্রোডাক্টটি অন্যান্য প্রডাক্টের থেকে খুব একটা লাইট নয়। বরং এটি একটু হেভি প্রোডাক্ট। তবে স্কিনে ব্যবহার করলে এটি স্কিনের সাথে খুব সুন্দর ভাবে ম্যাট হয়ে মিশে যায়। এই প্রোডাক্টের পড়তে পারে ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে।
- Skin clinic helixolঃ এই প্রোডাক্টটি ত্বক থেকে ব্রণ এবং ব্রনের দাগ সারাতে খুব ভালো কাজ করে। এতে থাকা হ্যালিক্স ও অ্যালোভেরার সংমিশ্রণ ত্বক যেমন ব্রণ মুক্ত করে তেমনি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করে খুব সহজেই।
- Loreal dharmasoft cleansing facial jailঃ স্কিন পরিষ্কার রাখতে একটি ক্লিনজারের দরকার এটি আমাদের সকলেরই জানা। আপনার অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক এবং ত্বকে ব্রনের সমস্যা থাকলে আপনি এই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ব্রণ ও তৈলাক্ত ভাব দূর করতে এটি দারুন কাজ করে। বিশেষ করে এই প্রোডাক্টটিতে থাকা শসা এবং গ্রিন টির নির্যাস ত্বককে আরো সজীব ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অয়েলি স্কিনের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো জেনেছেন, অনেকে আবার অয়েলি স্কিনের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো জানতে চান। অয়েলি ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরী। কারণ, অতিরিক্ত তেল ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস সহ নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঠিক সে কারণেই নারী পুরুষ সকলের একটি ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। যাতে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। এবার চলুন আপনার অয়েলি স্কিনের জন্য কোন ধরনের ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন তা জেনে নিন-- হিমালয়া পিউরিফাইং নিম ফেসওয়াশঃ হিমালয়ার এই ফেসওয়াশ নিয়ে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন নিম ও হলুদ দিয়ে তৈরি। যা ব্যবহারে ত্বকে এন্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাব ফেলে। এটি ত্বকের গভীর থেকে ময়লা ও তেল দূর করে এবং ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক থাকে ফ্রেশ ও পরিষ্কার। আপনি চাইলে এই ফেসওয়াশটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।
- নিউট্রোজেনা অয়েল ফ্রি আকনে ওয়াশঃ এই ফেসওয়াশ টি স্যালিসাইলিক অ্যাসিড যুক্ত হওয়ার কারণে এটি ত্বকের ব্রণ দূর করতে বেশ কার্যকার ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে অতিরিক্ত তেল এবং মৃত কোষ দূর করে। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবন ত্বকের জন্য এই ফেসওয়াশটি তৈরি এবং নিয়মিত ব্যবহারে স্কিন অনেক মসৃণ থাকে।
- ক্লিন এন্ড ক্লিয়ার ফোমিং ফেসওয়াসঃ এই ফেসওয়াশে থাকা ট্রাইক্লোসান উপাদানটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কার্যকর যা ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া এটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণেও দারুন কাজ করে। হালকা ফোমিং হওয়ায় এটি ত্বকে কোমল অনুভূতি দেয় এবং রেগুলার ব্যবহারে স্কিন অনেক বেশি তেল মুক্ত থাকে।
- গার্নিয়ার মেন অয়েল ক্লিয়ার আইসি ফেসওয়াশঃ পুরুষের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই ফেসওয়াশটি বিশেষভাবে উপযোগী। কারণ, এতে ম্যানথল ও আরজিনাইন উপাদান রয়েছে। যা ত্বক ঠাণ্ডা রাখে এবং ত্বকের গভীর থেকে পরিষ্কার করে। বিশেষ করে যারা রোদে ঘরের বাইরে কাজ করেন বা ঘাম বেশি হয় তাদের জন্য এটি উপযুক্ত একটি ফেসওয়াশ।
- নিউট্রোজেনা ক্লিয়ার এন্ড সুদ মুজ ক্লিনারঃ ত্বকের যত্নে হলুদের উপকারিতা আমাদের সকলেরই জানা। আর এই ফেসওয়াসটিতে আপনি পাবেন হলুদের সকল গুনাগুন। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে এটি আপনার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব, ব্রণের দাগ, বলিরেখা, ত্বকের কালচে দাগ ইত্যাদি দূর করে। বিশেষ করে হলুদে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও আন্টিসেপটিক গুণ আপনার ত্বকের ব্রণ প্রতিরোধে কাজ করে।
- কোজারেক্স স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ডেইলি জেন্টাল ক্লিনজারঃ গরমকালে ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে আপনি এই ফেসওয়াশটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে থাকা স্যালিসাইলিক এসিড ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ত্বকে একটা গ্লোয়িং ভাব নিয়ে আসে। আপনাদের যাদের স্কিন খুব সেনসিটিভ তারাও এই ফেসওয়াশ দিয়ে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন।
- দা বডি শপ টি ট্রি স্কিন ক্লিয়ারিং ফেসিয়াল ওয়াশঃ বর্তমান সময়ে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই ফেসওয়াশ দিয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধু তৈলাক্ত নয়, তৈলাক্ত ছাড়াও আপনাদের যাদের কম্বিনেশন স্কিন তারাও এটি ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেসওয়াশটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি ত্বক অতিরিক্ত ড্রাই করে না, ব্রণের সমস্যা দূর করে এবং ভেতর থেকে ত্বক পরিষ্কার রাখে।
- মামাআর্থ টি ট্রি ফেসওয়াশঃ মামাআর্থ এই ফেসওয়াশ টি বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি যার মধ্যে অন্যতম হল টি ট্রি অয়েল ও নিয়াম। এই দুটি উপাদানে ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণ প্রতিরোধে বিশেষ ভাবে কার্যকর। সবচেয়ে বড় কথা হলো এটি ত্বকে কোন ধরনের রাসায়নিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না এবং সেনসিটিভ স্কিনের জন্যও উপযোগী।
- Bioderma Sebum Gel Moussant Purifying Cleansing Foaming Gelঃ ত্বকের শিবাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা কত কিছুই না ব্যবহার করি। আপনার ত্বক যদি অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি এই ফেসওয়াস টি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতেই পারেন। কারণ, এটি স্কিনে জমে থাকা নোংরা, তেলটে ভাব এবং মেকআপ পার্টিকেলস দূর করে। এতে রয়েছে কপার সালফেট এবং জিংক, যা ত্বকের ইনফ্লামেশন কমাতে কাজ করে।
- Guerniss Acne Facial Washঃ গরমে তৈলাক্ত ত্বক মানেই ত্বক তেলটে চিটচিটে হওয়া। এর কারণ কি জানেন? আমাদের ত্বকে তো এমনিতেই প্রাকৃতিক তেল থাকে। যা বারবার ওয়াশ করলে রিমুভ হয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই আবারও স্কিনের ভেতর থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়ে যায়। এ কারণেই ত্বকের তৈলাক্ত ভাব একেবারেই কমানো সম্ভব হয়না।
- তা বলে তৈলাক্ত ভাব দূর করতে বারবার ফেসওয়াশ করতে হবে বিষয়টা এমন না। বরং এর জন্য আপনাকে এমন একটি ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে যা আপনার স্কিনের ভেতর থেকে তেল দূর করবে এবং স্কিন পরিষ্কার রাখবে। ঠিক এমন একটি ফেসওয়াশ হল Guerniss Acne Facial Wash. এই ফেসওয়াশটি স্যালিসাইলিক হওয়ার কারণে এটি ত্বককে একেবারে গভীর থেকে পরিষ্কার করে।
- Gfors Salicylic Acid Deep Cleansing Foamঃ যেকোনো তৈলাক্ত এবং গ্রহণ ত্বকের জন্য প্রথমে আমাদের মাথায় আসে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড। শুধু তাই নয়, এতে রয়েছে এলোভেরা যা কিনা একোনে কোজিং ব্যাকটেরিয়াকে খুব সহজে দমন করতে পারে। এই ফেসওয়াস এর আরেকটি বিশেষত্ব হলো লরিক এসিড। কারণ, লরিক এসিডে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ থাকে।
- ত্বকের একোনে অপসারণে এই উপাদানটি খুবই জরুরী। আবার propionibacterium acnes নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া কেবলমাত্র আমাদের ত্বকই পাওয়া যায়। এগুলো বাড়লে ত্বকে স্বাভাবিকভাবে একোনেও বৃদ্ধি পায়। ঠিক সে কারণেই এই ফেসওয়াস টি ব্যবহার করলে এতে থাকা লরিক এসিড আপনার ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমাবে। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এই ফেসওয়াস টি কেন আপনার ত্বকের জন্য উপকারী।
- Neutrogena Oil Free Acne washঃ আপনি কি আপনার ত্বকে সিবাম কন্ট্রোলের পাশাপাশি ত্বকের একোনে দূর করবে এমন ফেসওয়াশ খোঁজ করছেন? তাহলে বলব Neutrogena oil free acne wash এই ফেসওয়াস টি ব্যবহার করুন। কারণ, এতে থাকা অয়েল ফ্রি ফর্মুলেশন শুধুমাত্র ত্বক ডিপলি পরিষ্কার করে তা নয় বরং এর স্যালিসাইলিক এসিড আপনার ত্বককে ব্রেক আউট হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি ডার্মাটোলজিস্ট কর্তৃক টেস্ট কৃত একটি ফেসওয়াশ। যদি নিয়মিত ব্যবহার করেন তাহলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে আপনি আপনার ত্বকের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
কোন ত্বকের জন্য কোন সিরাম
কোন ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো আমরা অনেকেই জানিনা। অথচ প্রত্যেকের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সিরাম বেছে নেওয়া খুবই জরুরী। অন্যথায় আপনার ত্বকের জটিলতা আরো বেড়ে যেতে পারে। ঠিক এ কারণেই আপনাকে জানতে হবে কোন ত্বকের জন্য কোন সিরামটি ব্যবহার করা উচিত। তাহলে চলুন জেনে নিই -- নরমাল স্কিনঃ নরমাল স্কিন বলতে স্বাভাবিক স্কীনকে বোঝানো হয়ে থাকে অর্থাৎ খুব বেশি তৈলাক্ত না আবার খুব বেশি শুষ্ক না। নরমাল স্কিন সাধারণত সারা বছরজুড়েই মসৃণ থাকে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ভাব বজায় থাকে। কিন্তু যত্নের অভাবে অনেক সময় আপনার নরমাল স্কিনও রুক্ষ শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে।
- মনে রাখবেন, যেসব সিরাম সব ধরনের স্কিনের জন্য প্রযোজ্য ঠিক সেই সিরামটি নরমাল স্কিনের জন্যও প্রযোজ্য। তবে নরমাল স্কিনের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এবং রেটিনল সম্পন্ন সিরাম ব্যবহার করায় ভালো। কারণ, এই দুটি উপাদানই ত্বক থেকে বয়সের ছাপ কমায় এবং স্কিনের সজীবতা বজায় রাখে।
- শুষ্ক ত্বকের জন্যঃ ড্রাই স্কিন বলতে বুঝায় রুক্ষ শুষ্ক এবং খসখসে ত্বককে। যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয় তাদের খুব অল্প বয়সে ত্বকে বয়সের ছাপ চলে আসে। তাছাড়া অতিরিক্ত ড্রাই থাকার কারণে স্কিনের জ্বালাপোড়া ভাব এবং চুলকানিও অনেক সময় বেড়ে যায়। আপনার ত্বক যদি অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে হায়ালুরোনিক এসিড এবং কোলাজেন যুক্ত শীরাম ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, এটি ত্বক হাইড্রেটেড রাখে এবং ত্বক থেকে সব ধরনের রিঙ্কেলস দূর করে।
- ব্রণ প্রবণ স্কিনঃ আমাদের ত্বকে অনেক সময় পোরস গুলো হয়ে যায়। ফলে স্ক্রিনে ব্রেক আউট হয় এবং ত্বকে ব্রণ, হোয়াইট হেডস এবং ব্ল্যাকহেডস এর মত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে প্রথমেই আপনাকে ত্বকের পোরস বন্ধ করার সিরাম ব্যবহার করতে হবে। কারণ, পোর্স বন্ধ হলে স্বাভাবিকভাবে ত্বকে ব্রনের প্রবণতা কমবে। এক্ষেত্রে আপনি সালিসালিক এসিড সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।
- কম্বিনেশন স্কিনঃ কম্বিনেশন স্কিম বলতে মূলত বুঝানো হয়ে থাকে ড্রাই এবং অয়েলি এ দুটোর সংমিশ্রণ। অর্থাৎ আপনার থুতনি নাক, কপাল যদি খুব সহজে তৈলাক্ত হয়ে যায় কিন্তু গাল শুষ্ক থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে এটি আপনার কম্বিনেশন স্কিন। আর কম্বিনেশন দিনে যেহেতু ড্রাই এবং অয়েলি দুটো ভাব থাকে,
- তাই আপনাকে এমন একটি সিরাম ব্যবহার করতে হবে যার সমানভাবে আপনার স্কিনকে হেলদি রাখবে। এমন স্কিনের জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন নিয়াসিনামাইড এবং গ্রিন টি। কারণ এই দুটি উপাদান ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত করে না আবার শুষ্ক করেও তোলে না। বরং ত্বকের হাইড্রেশন ধরে রাখে।
- অল স্কিন টাইপঃ যে স্কিনে প্রায় সব ধরনের কিছু না কিছু সমস্যা দেখা যায় সেটিকে অল স্কিন টাইপ বলা হয়। যেমন ধরুন- ত্বকের কালো দাগ, ব্রনের দাগ, ত্বকে অতিরিক্ত তিল ইত্যাদি। যদিও স্কিনের এই সমস্যাগুলো একেবারেই দূর করা সম্ভব নয় কিন্তু কমিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনার যদি অল স্কিন টাইপ হয়ে থাকে তাহলে আপনি আরবুটিন, ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড ব্যবহার করতে পারেন।
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্যঃ আপনাদের যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা বেছে নিতে পারেন সালিসাইলিক অ্যাসিড রয়েছে এমন সিরাম। কারণ এই সিরাম ব্যবহারে আপনার ত্বকে সিবাম নিঃসরণ এর হার কমবে। এটি ত্বকের পোর্সে জমে থাকা ময়না খুব সহজে অপসারণ করতে পারে। ফলে ত্বকও উজ্জ্বল হয়। এছাড়াও আপনি গ্লাইকোলিক এসিড,সাইট্রিক এসিড, ম্যালিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক এসিড, ম্যান্ডেলিক এসিড থাকা সিরাম গুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো মেয়েদের
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঠিক কোন সিরামটি ভালো তা জেনেছেন, কিন্তু তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো মেয়েদের জানেন! তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মেয়েদের উপযুক্ত একটি ভালো ফেসওয়াশ হতে হবে এমন, যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করবে কিন্তু ত্বককে শুষ্ক করবে না। এই ধরনের ফেসওয়াশ সাধারণতজেল
বেসড হয় এবং এতে স্যালিসাইনিক এসিড, টি ট্রি অয়েল বা নিয়াসিনামাইড এর
মত উপাদান থাকে। যা ব্রণ প্রতিরোধে কাজ করে এবং ত্বক সতেজ রাখে। সে হিসেবে
আপনি Himalaya purifying neem face wash, clean and clear forming face
wash, Neutrogena oil free acne wash ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি খুবই
কার্যকরী এবং বেশ সহজলভ্য ফেসওয়াশ।
এই
ফেসওয়াশগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি।
ব্যবহারে আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর হবে এবং থাকবে মুসলিম
পরিষ্কার। তবে যেকোনো ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পূর্বে প্যাচ টেস্ট করিয়ে
নেওয়া ভালো। যেন আপনার ত্বকে কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না হয়।
পরিশেষে - তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো
অয়েলি ত্বকের জন্য কোন সিরাম ভালো আমরা এতক্ষণ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যা পড়ে আপনিও হয়তো উপকৃত হয়েছেন। উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও ও দীপ্তিময় ত্বকের জন্য সিরাম দারুন কার্যকরী একটি উপাদান। কিন্তু সিরাম ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই আপনাকে জেনে নিতে হবে কোন সিরামটি আপনার ত্বকের জন্য ব্যবহারের উপযোগী এবং এর কাজ সম্পর্কে।অর্থাৎ
আপনার ত্বকের জন্য অয়েল ফ্রি এবং নন কমেডোজেনিক সিরাম বেছে নিন। যা
আপনার ত্বককে অতিরিক্ত ড্রাই করবে না কিন্তু হাইড্রেটেড রাখবে। মনে রাখবেন,
ত্বকের জন্য সঠিক সিরাম নির্বাচন না করলে তাতে উপকারের পরিবর্তে হিতে
বিপরীত হতে পারে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং পরবর্তী আর্টিকেল পেতে
আমাদের পিন পয়েন্ট মাক্স ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।



পিন পয়েন্ট ম্যাক্স এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url